
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী হবিগঞ্জ-২ আসনের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ধানের শীষ প্রতীকের এক ঐতিহাসিক গণমিছিলে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেছেন, “বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, এটাই আমার শিকড় ও পরিচয়। এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস আমাকে গভীরভাবে আন্দোলিত করেছে। এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়।”
তিনি বলেন, হাওরের মানুষের সংগ্রামী জীবন, বর্ষার পানিবন্দিত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট ও চিকিৎসা–শিক্ষার কষ্ট তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এই বাস্তবতাই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ববোধ থেকে রাজনীতিতে এসেছি। “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। নির্বাচিত হলে এমপি হয়ে দূরে থাকব না—একজন সেবক হয়ে আপনাদের পাশেই থাকব। চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাওরবেষ্টিত এই জনপদ অবহেলিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিজয়ী হলে ইনশা আল্লাহ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়, মানবিকতা ও রাজনৈতিক সম্প্রীতির পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।
শেষে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জের অবহেলিত মানুষের পক্ষে রায় দিন। আমি আপনাদের ভালোবাসার মর্যাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় লোকনাথ রমণ বিহারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বড় বাজার শহীদ মিনার চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হওয়া এই বিশাল গণমিছিলে জনতার ঢল, স্লোগানের গর্জন আর ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাসে বানিয়াচংয়ের রাজপথ যেন রূপ নেয় জনআকাঙ্ক্ষার মহাস্রোতে। একপর্যায়ে গণমিছিলটি বিশাল জনসভায় পরিণত হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নকিব ফজলে রকিব মাখনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই গণমিছিলে বেলা ২টা থেকেই বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে মিলিত হতে থাকে। মানুষের ঢলে পুরো এলাকা রূপ নেয় ধানের শীষের গণজোয়ারে।
এই অভূতপূর্ব গণমিছিল দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। সফল গণমিছিল আয়োজনের জন্য তিনি প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই গণমিছিল শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি ছিল বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জের মানুষের আশা, বিশ্বাস ও পরিবর্তনের দৃপ্ত প্রত্যয়ের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।