
লাখাই উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক বজ্রপাতের কবলে পড়ে সুতাং নদীতে সাদেক (৩১) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান মেলেনি। নদীজুড়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল সহ পুলিশের একটি টিম।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার বামৈ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মোজাম্মিল মিয়ার দুই ছেলে ফরাশ মিয়া ও সাদেক মিয়া সুতাং নদীর অদূরে জমি থেকে কাটা ধান আনতে যান।
ধান নিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত শুরু হয়।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বড় ভাই ফরাশ মিয়া দ্রুত নৌকা চালিয়ে তীরের দিকে আসতে শুরু করেন।
ওই সময় নিখোঁজ সাদেক মিয়া নৌকার গলুইয়ে (সামনের অংশে) একটি অ্যালুমিনিয়ামের বল (গামলা) মাথায় দিয়ে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে আতঙ্কে ও আকস্মিক ধাক্কায় সাদেক নৌকা থেকে গভীর সুতাং নদীতে ছিটকে পড়ে তলিয়ে যান।
সাদেকের নিখোঁজের খবরটি দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আজাদ হোসেন ফুরুক। খবর পেয়ে লাখাই উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করে।লাখাই ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার উত্তম কুমার বর্ধন জানান, সুতাং নদীর গভীরতা ও স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে হবিগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই নদীতে পুরোদমে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। লাখাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র এবং উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণয় কুমার সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।”সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিখোঁজ সাদেকের কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বজনদের আহাজারিতে সুতাং নদীর তীরবর্তী পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।