
লাখাই:বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে হাওড়বেষ্টিত লাখাই উপজেলায় সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সাপের কামড়ে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
একদিকে বিষাক্ত সাপের ভয়, অন্যদিকে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সাপের কামড়ের একমাত্র প্রতিষেধক ‘অ্যান্টিভেনম’ ইনজেকশন না থাকায় সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার রাব্বি মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর, গত শুক্রবার রাতেও বিষাক্ত সাপের ছোবলে রেজিয়া বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সাপের ছোবলে এমন দুটি মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের টনক নড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সাপের প্রাকৃতিক বাসস্থানগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সাপ আশ্রয় ও শুকনো জায়গার খোঁজে মানুষের বসতবাড়ি, লাকড়ির ঘর বা উঁচু স্থানে চলে আসে।
আর এই সংকটময় ও ভয়ংকর পরিস্থিতিতে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা সময়ের দাবি বলে মনে করেন সচেতন মহল।
সেই সাথে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পদক্ষেপই এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম এর বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কাজী সামছুল আরেফিন জানান, “আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে অ্যান্টিভেনম ছিল এবং আমরা নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছিলাম, তবে বিগত ৩ মাস যাবত আমাদের অ্যান্টিভেনমের স্টক শেষ হয়ে গেছে।
আমরা ইতিমধ্যে নতুন বরাদ্দের জন্য চাহিদা পত্র পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই জানিয়ে দেওয়া হবে।
“জরুরি এই প্রতিষেধক না থাকায় সাপে কাটা রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতাল নিয়ে যেতে হচ্ছে,ফলে তা অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
লাখাই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ অবিলম্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।