
বানিয়াচংএ উস্তার মিয়া (৩৮) পেশায় একজন কঠোর পরিশ্রমী ভ্যানচালক। প্রতিদিনের মতো ভ্যানের চাকা ঘুরিয়েই চলত তার ৬ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের পড়াশোনা। কিন্তু নিয়তির এক নির্মম পরিহাসে আজ থমকে গেছে সেই চাকা, বন্ধ হয়ে গেছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের পথ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টায় প্রতিদিনের ন্যায় ভ্যান গাড়ি নিয়ে শরীফ উদ্দিন সড়কে বের হন উস্তার মিয়া। কিছুদূর যাওয়া মাত্রই একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার সাথে তার ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার একটি হাতের ৩টি আঙুল গুরুতরভাবে পিষে ও ভেঙে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত ও সঠিক চিকিৎসা করালে আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। কিন্তু বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে তার সেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উস্তার মিয়া বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত তরিক মিয়ার ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক। সন্তানরা সবাই এখনও অনেক ছোট এবং পড়াশোনা করছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ হাসপাতালের শয্যায় ছটফট করায় ঘরে চলছে তীব্র অন্নকষ্ট। একদিকে নিজের চিকিৎসার বিপুল খরচ, অন্যদিকে সন্তানদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার দুঃসহ দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে ৬ সদস্যের পরিবারটি নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর ও অবর্ণনীয় জীবনযাপন করছেন তিনি।
চিকিৎসা শেষ করে আবারও যেন সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন, সেজন্য উস্তার মিয়া ও তার পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ দেশের সকল বিত্তবান ও মানবিক হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে জরুরি আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন