
মেধা, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাও হার মানে—এর উজ্জ্বল উদাহরণ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থী শোয়েব আহমেদ। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর (MSS) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ায় হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।
শোয়েব আহমেদ বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মো. জিতু মিয়ার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
তিনি ২০১০ সালে বনমথুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (PSC) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৩ সালে এল. আর. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বানিয়াচং থেকে জেএসসি, ২০১৬ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে জনাব আলী সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
উচ্চশিক্ষার পথচলায়ও তিনি সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২২ সালে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স (BSS) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে একই বিভাগ থেকে মাস্টার্স (MSS) পরীক্ষায়ও প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষাজীবনের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেন।
শুধু একাডেমিক ফলাফলই নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন শোয়েব। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কলেজ পর্যায়ের কুইজ প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শোয়েব আহমেদ বলেন, “আমি বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান, গবেষণা-দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখাই আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।”
শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, শোয়েব আহমেদের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বানিয়াচং তথা হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম যে একজন মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, শোয়েব আহমেদের শিক্ষাজীবন তারই বাস্তব প্রমাণ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করা হলে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার পাশাপাশি জাতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।