1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুরুতর আহত কুরিয়ারে পাঠানোর আগেই ধরা পড়ল ১ লাখ শলাকা অবৈধ সিগারেট শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ শ্রীমঙ্গলের ভুনবীরে শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১২ ফুটের অজগর, দেখতে ভিড় মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার

চার শিক্ষকের থাবায় জিম্মি সিলেটের এতিম ও বিশেষ শিশুরা

সিলেট প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও পিতৃহীন এতিমদের শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সিলেটের বাগবাড়িস্থ ‘সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল এন্ড কলেজ’ এখন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দলাদলি ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার অভিযোগে আলোচনায়। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন শিক্ষকের কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক বলয় তৈরির কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভীতি ও মানসিক অস্বস্তি।

জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদারকিতে পরিচালিত এই বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে একটি শিক্ষক বলয় প্রভাব বিস্তার করে আসছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ বলয়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য, অননুমোদিত ছুটি ভোগ, ক্লাসে অনিয়ম এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসা জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্ত নথি ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনপত্রে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক আকলিমা বেগম এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক মিনহাজুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও রুহুল আমিন।

নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, অনিয়মের একাধিক অভিযোগ

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রির যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মানবিক বিবেচনায় এইচএসসি পাস আকলিমা বেগমকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ছুটির তথ্য গোপন করে সরকারি অর্থ গ্রহণ, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ সময় ছুটি ভোগ এবং অপ্রাসঙ্গিক কোর্সের নামে ছুটি নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিন খণ্ডকালীন শিক্ষক মিনহাজুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধেও ক্লাসে অনিয়ম, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অমান্য, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি এবং শিক্ষক মিলনায়তনে নারী সহকর্মীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ

প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাবেক প্রধান শিক্ষক ফারজানা ইসরাত একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বরং অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে মিথ্যা অপপ্রচার ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

সাবেক প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, তিনি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। তবে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়ার দাবি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া আক্তার জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র পর্যালোচনা করে তিনি আগের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার কথা জানতে পেরেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও নিজেদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে লিখিত আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত শিক্ষকদের

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা।

সহকারী শিক্ষক আকলিমা বেগম নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মাতৃত্বকালীন ছুটি সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময় তিনি কোনো ছুটি নেননি।

অন্যদিকে, খণ্ডকালীন শিক্ষক মিনহাজুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও রুহুল আমিন ক্লাস ফাঁকি দেওয়া কিংবা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা নিয়মিত ক্লাস নেন এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা করেন না।

প্রতিষ্ঠানে তাঁদের মধ্যে কোনো বিশেষ বলয় বা ‘গ্রুপিং’ রয়েছে—এমন অভিযোগও তাঁরা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, চারজনের মধ্যে শুধু ‘মনের মিল’ থাকায় তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা করেন।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সুশীল সমাজ

অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও এতিম শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার বলয় কোনোভাবেই কাম্য নয়। এসব কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন শিশুরাই, যাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, স্বাভাবিক ও ভয়মুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অভিভাবক ও সুশীল সমাজের ভাষায়, কয়েকজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা বলয়ের কাছে কোনোভাবেই শত শত এতিম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ভবিষ্যৎ জিম্মি হতে পারে না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর