
আমি একার নই, আমি অনাদি আদিগন্তের রুদ্র-প্রলয়! আমি ধ্বংসে সৃষ্টির অগ্নিস্নাত প্রতিমা, জীবনের অমর সংহিতা।
সীমা ভাঙা স্বরে আমি চরাচর জাগাই, আমি জাতি-নির্বিশেষের বিজয়-উল্লাস, ভাষা-পারাবারের মহাজ্যোতি-স্রোতধারা।
নই আমি কূপমণ্ডূক, নই আমি পাঁজর-বন্ধ কারাগারে আবদ্ধ, আমি সত্তার মুক্তিযোদ্ধা, চেতনার তেজোদীপ্ত সূর্য-অঞ্জন।
আমি উন্মুক্ত হৃদয়ের মহারণ্য, প্রেমের অলঙ্ঘ্য চূড়া, যেখানে সকল ‘পর’ বিলীন হয়ে যায়, বিভেদ হয় চূর্ণ-স্মরূপ ধ্বংসাধারায়।
আমি জীবন-রক্তের দীপ্ত মন্ত্র, প্রজ্ঞার মহাসাগর, শ্বাসে শ্বাসে বহি আমি মানবমুক্তির জ্বালামুখ-স্বর।
অন্তিম নিশ্বাসেও আমি হব সর্বজনের উচ্চারিত ধ্বনি, হৃদয়ে হৃদয়ে জ্বালাব অজেয় একতার অগ্নিবাণী।
আমি নই প্রতিষ্ঠার ঘুণপোকায় কাঁটাখাওয়া চৌহদ্দী, আমি দিগন্ত-বিনির্মিত আলোকচূড়া, মানবিকতার দিগ্বিজয়ী সেনাপতি।
আমি নই শৃঙ্খলে বাঁধা সভ্যতার ভগ্ন মূর্তি, আমি বজ্র-দীপ্ত, কালোত্তীর্ণ এক মুক্ত আত্মার রথীরথী!
আমি সর্বজন, সর্বকাল, সর্বমহিমার ধ্বজাধারী, আমি নই সীমাবদ্ধ, আমি মহানন্দের চির-অমল ধ্যারি।
পথ হোক পাথার, তবু কাঁধে কাঁধ মেলাব, বজ্রবুকে বলিঃ- আমি সবার, আমি তবু কারো নই, আমি ধ্বংসে দীপ্ত সৃষ্টি-শিরোমণি!