
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৬ সেকেন্ড এবং পরে ৩০ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে মাদক সেবন করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিও দুটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারিঘাটের ডুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলামের নামে ব্যবহৃত একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রথমে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এরপর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার।
পরে রাত ১০টার দিকে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দলীয় নেতা-কর্মী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সম্মান ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এটি প্রচার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী বলেন, “আমি কোনো ধরনের মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত নই। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিও পোস্টকারী ব্যক্তির সঙ্গে সালিশ-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমার ধারণা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমি আইনি সহযোগিতা নেব।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন, “চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে বলে আমার ধারণা। এখন পর্যন্ত ভিডিওটির সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।”
এদিকে সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাইরাল ভিডিওতে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. অলিউর রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র দাস, জেলা কার্যালয়, সিলেটের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. চাঁন মিয়া, জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওসমান গনি এবং সদস্য-সচিব হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুজেয় চৌধুরী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা এবং এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।